মামীর মাংসল মসৃণ পিঠটা


অস্থির মামী – ১এম.এ. পাশ করে বাড়িতে বসে আছি. রোজগার বলতে খালি বিকেলে দুটো ছাত্র পড়াই. হঠাৎ করে একদিন
কলকাতা থেকে আমার এক দুঃসম্পর্কের মামা মাকে ফোন করে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারল
যে আমি চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বাড়িতে বসে আছি আর হতাশায় ভুগছি. মামা মাকে প্রস্তাব দিল, “সাগর যখন কোনো কাজকর্ম
করে না, তখন আমার কাছে পাঠিয়ে দে. ও আমাকে ব্যবসায় সাহায্য করবে. আমার একটা বিশ্বাসী লোক দরকার. সাগরকে বিশেষ কিছু
করতে হবে না. খালি আমার কর্মচারীদের ওপর নজর রাখবে. আমি সবদিক একা সামলাই আর সেই সুযোগে অনেকে ফাঁকি মারে.
সাগর এলে ওদের ফাঁকি মারা বন্ধ হয়ে যাবে. ও অফিস সামলালে আমিও ঠিক মত অন্য সব দিক দেখতে পারব. ব্যবসাটাকে বাড়াতে পারব.” মাও অমনি সানন্দে রাজি হয়ে গেল. উত্তম মামার কোনো ছেলে নেই, একটাই মেয়ে. বছর তিনেক আগে সে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার
পর এক অনাবাসী ভারতীয়ের সাথে তিন মাস ইন্টারনেটে প্রেম করে, তারপর বিয়ে করেছে. এখন অ্যামেরিকায় থাকে. মা আমাকে ডেকে বলল, “তুই
কলকাতায় চলে যা. উত্তমের কাছে গিয়ে থাক. ওকে ওর ব্যবসায় সাহায্য কর. জানিস তো ওর পরিবহনের ব্যবসা আছে.
নতুন ব্যবসা. তবে মস্তবড়. প্রচুর লাভ. ওরা খুব বড়লোক. অগাধ টাকা. তোর কোনো কষ্ট হবে না. খুব যত্নে থাকবি.”
পরদিন আমি কলকাতায় চলে এলাম. অনেকদিন বাদে উত্তম মামার বাড়িতে এলাম. শেষ এসেছিলাম
মামাত বোনের বিয়েতে. সেই সময় এক সপ্তাহ কাটিয়ে গেছিলাম. তখন মামা চাকরি করত. আমি বাড়ি ফিরে যাবার মাস
ছয়েক বাদেই শুনলাম মামা চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করে পরিবহনের ব্যবসা শুরু করেছে. এই আড়াই
বছরে প্রচুর পয়সা রোজগার করেছে. মামারবাড়ি গিয়ে তাই আমার তাক লেগে গেল. একতলা বাড়িটা তিনতলা হয়ে গেছে.
পুরোটাই মার্বেল ফ্লোরিং আর প্যারিস করা. জানলা-দরজা সব শেগুন কাঠের. বাইরেটাও দুধ সাদা রং করা. একতলায় তিনটে ঘর
ছিল. তাদের মধ্যে দুটোকে ভেঙ্গে বড়
একটা ড্রইংরুম করা হয়েছে.
তৃতীয় ঘরটাকে গেস্টরুম
করে দেওয়া হয়েছে. পাশের
রান্নাঘর আর
বাথরুমটাকে জোড়া দিয়ে একটা বিরা
ট বাথরুম করা হয়েছে. দোতলা আর
তিনতলা পুরো নতুন. দোতলায়
সামনের
দিকে একটা টানা ঝুলবারান্দা.
বারান্দা পেরোলেই দুটো বড় বড়
বেডরুম. দুটোর সাথেই সংলগ্ন
বাথরুম আছে. দোতলায় আর
একটা ঘর আছে. সেটাকে মনে হয়
রিডিংরুম হিসেবে ব্যবহার
করা হয়. ঘরের ভেতরে একটা বড়
বই রাখার আলমারি ছাড়াও
একটা বিরাট মনিটার সমেত
কম্পিউটার রাখা. দোতলায়
একটা মস্তবড় রান্নাঘরও রয়েছে.
তিনতলাটা একটু অদ্ভুত. প্রথমত
প্রাচীর তুলে পুরোটা ঘেরা হয়নি.
সামনের দিকে প্রায় বারো ফুটের
মত জায়গা ছেড়ে রাখা হয়েছে.
অবশ্য অনাচ্ছাদিত
জায়গাটাকে তিনপাশে লোহার
রেলিং দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে.
বাকি ছাদের তলায় সম্পূর্ণ
জায়গাটাকেই একটা বিশাল বড়
হলঘরে পরিণত করা হয়েছে.
হলঘরের একদিকে রয়েছে বিশাল
একটা এলসিডি টিভি আর
একটা মিউসিক সিস্টেম, আর ঠিক
তার বিপরীত
দেওয়ালে দুটো গদিওয়ালা দামী বড়
সোফা আর একই সেটের
দুটো গদিওয়ালা বড় চেয়ার রাখা.
মামারবাড়ির
প্রতিটা ঘরে এসি লাগানো.
এমনকি হলঘরটাও বাদ যায়নি.
বিশাল বড়
বলে ওটাতে তো দুটো এসি লাগানো র
য়েছে. এছাড়াও উত্তম মামার
দুটো ব্যক্তিগত গাড়ি আছে.
দুটোই খুব দামী.
একটা মামী ব্যবহার করে.
মামী গাড়ি চালাতে পারে না বলে মাম
া একটা গাড়োয়ান রেখেছে.
বাড়িতে তিন তিনটে চাকর.
দুটো ঠিকে ঝি আর
একটা দিনরাতের কাজের মেয়ে.
গোটা বাড়িটা ধনাঢ্যতার
আলোতে ঝলমল করছে. মামার এত
রমরমা দেখে আমার মনটা ঈর্ষায়
ভরে উঠলো. উত্তম মামা মাত্র
দুটো বছর ব্যবসা করে এমন
একটা পেল্লায়
বাড়ি বানিয়ে ফেলল আর আমার
বাবা সারাটা জীবন
কেরানিগিরি করেও
সরকারি অফিস-কোয়ার্টার
থেকে বেরোতে পারল না.
মামারবাড়ি পৌঁছে প্রথমেই
আমি মামার পা ছুঁয়ে প্রণাম
করলাম. কলকাতা শহরে আজকাল
ছোটদের কাছ থেকে প্রণাম
পাওয়াটা বড় দুর্লভ. তাই
মামা বেশ গদগদ
স্বরে আমাকে স্বাগত জানাল.
“আয়, আয়! ভেতরে ঢোক. ওসব
প্রণাম-টোনাম পরে করবি.
আগে একটু জিড়িয়ে নে. অনেকদিন
বাদে এলি.
বাড়িটা চিনতে কোনো কষ্ট
হয়নি তো? কতদিন পর
তোকে দেখলাম! কেমন আছিস
তুই?”
“আমি ভালো আছি মামা.
তুমি কেমন আছো? তোমার
ব্যবসা কেমন চলছে?”
“ব্যবসা! সেই জন্যই
তো তোকে ডেকে নিয়ে এলাম.
ব্যবসাটাকে বাড়াতে চাই বুঝলি.
কিন্তু গাড়ির ব্যবসাতে অনেক
কাজ. সবসময় এটা-সেটা লেগেই
থাকে. আমাকে চারদিক
একা সামলাতে হয়. কিন্তু এত বড়
একটা ব্যবসা কি আর
একা সামলানো যায়? তুইই বল! তাই
তো তোর মাকে বললাম
যে তোকে পাঠিয়ে দিতে. তুই
আমাকে একটু সাহায্য করবি.
তেমন কোনো কষ্টকর কাজ না.
শুধু আমার ফাঁকিবাজ
কর্মচারিগুলোর ওপর
নজরদারি রাখা,
যাতে ওরা ফাঁকি মারতে না পারে.
তুই ওদের ওপর নজর
রাখলে আমি একটু নিশ্চিন্ত
মনে ক্লায়েন্টদের সাথে কারবার
করতে যেতে পারব. যেদিন
ক্লায়েন্টদের সাথে আমার
মিটিং থাকে, সেদিন আমার
কর্মচারীরা কাজে বড়
বেশি ঢিলে দেয়. তাতে ব্যবসার
বড় ক্ষতি হয়. এবারে তুই
এসে গেছিস. তুই এবার
থেকে লক্ষ্য রাখবি যাতে ওরা আর
এক মিনিটের জন্যও
ফাঁকি দিতে না পারে.
কি রে পারবি তো?”
“হ্যাঁ মামা, খুব পারব. এ আর
এমন কি শক্ত কাজ.
তুমি নিশ্চিন্তে থাকো. তা মামা,
মামী কই? মামীকে দেখছি না.”
“তোর মামী একটু বেরিয়েছে.
সময়

Updated: 08/02/2016 — 2:56 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published.